অ্যাভোকাডো ফল

অ্যাভোকাডো ফল

বাংলাদেশে যেসব বিদেশি ফল চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তার মধ্যে অ্যাভোকাডো অন্যতম। অন্যান্য ফলের তুলনায় এ ফলের মিষ্টতা কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অতি উপযোগী। এ ফলের আকার অনেকটা পেয়ারা বা নাশপাতির মতো। একেকটা ফলের ওজন প্রায় ৩০০-৭০০ গ্রাম হয়।পেঁপের মতো কাঁচা-পাকা ফল, সবজি, ভর্তা, সালাদ, শরবতসহ ভিন্নতরভাবে খাওয়ার সুবিধা আছে।

 

 

উৎস ও বিস্তারঃ

এ ফলের আদি স্থান মেক্সিকো ও গুয়াতেমালা। পরে এটি আমেরিকা ও ক্যারাবিয়ান দেশগুলোতে বিস্তার ঘটে। যেসব দেশে বেশি অ্যাভোকাডো উৎপন্ন হয় তার মধ্যে মেক্সিকো, চিলি, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, কলম্বো, পেরু, কেনিয়া, ব্রাজিল, রুয়ান্ডা, চীন অন্যতম।

 

জাত : 

পৃথিবীতে শতাধিক জাতের অ্যাভোকাডো ফল চাষ করা হয়ে থাকে। জাতগুলোকে তিনটি রেসে বা গোত্রে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো :

ক. মেক্সিকান,

খ. গুয়াতেমালা এবং

গ. ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান প্রজাতি।

 

বংশবিস্তার :

 বীজ থেকে চারা তৈরি করে যৌন (Asexual) পদ্ধিতে এবং কলম তৈরি করে অঙ্গজ (অংবীঁধষ) পদ্ধতি অবলম্বনে অ্যাভোকাডো গাছের বংশবিস্তার করা হয়। বাংলাদেশে চাষি পর্যায়ে যেসব গাছ রয়েছে সেগুলো সবই বীজ থেকে তৈরি চারার গাছ। ভারতেও বেশির ভাগ অ্যাভোকাডো বীজ থেকে উৎপাদিত।

 

বীজ থেকে চারা উৎপাদন :

 পুষ্ট ফলের বীজ সংগ্রহ করে তা থেকে চারা তৈরির জন্য বীজতলায় বীজ বসাতে হয়। বীজ সংগ্রহের পরপরই বীজ বপন করা প্রয়োজন। কেননা সংগৃহীত বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ২-৩ সপ্তাহের বেশি থাকে না। বীজ বসানোর আগে বীজের উপরি ভাগের আবরণ সরিয়ে দিলে বীজ বেশি গজায়। এ ফলের বীজ বসানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বীজের চওড়া ভাগ নিচে থাকে।

 

কলম তৈরি পদ্ধতিতে :

দু-তিন ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট চারা গাছ কলম করার জন্য উপযোগী হয়। সারা বছর ধরে কলম করা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কলম করার জন্য বেশি উপযোগী। বাডিং পদ্ধতিতেও অ্যাভোকাডো গাছের বংশবিস্তার করা যায়। সমগোত্রে বা রেসে কলম করলে সফলতার হার বাড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রেসের সাথে ম্যাক্সিক্যান রেসের কলম করা যায় না, তবে গুয়াতেমালা ও হাইব্রিড জাতের সায়ন দিয়ে সব প্রজাতির কলম করা যায়

 

ফল সংগ্রহ :

প্রধানত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পুষ্ট বা পাকা ফল পাওয়া যায়। কচি ফলের রঙ অনেকটা সবুজ থাকে, তবে পুষ্ট হলে বা সংগ্রহ উপযোগী হলে ফলের রঙ পরিবর্তন হয়ে হালকা সবুজ বা কিছুটা ধূসর বা বাদামি রঙ ধারণ করে। এ দেশে ফল পুষ্ট হতে ৫-৬ মাস সময় লাগে, অথচ অন্য দেশগুলোতে অ্যাভোকাডো ফল পাকতে ৮-১০ মাস সময় লাগে। অন্য ফলের ন্যায় গাছে ফল পেকে ঝরে পড়ে না। পুষ্ট ফল পেড়ে ঘরে ৫-৭ দিন রাখলে ফল নরম হয়ে আহার উপযোগী হয়। এ ফল দীর্ঘদিন গাছে রাখার সুবিধা আছে। পুষ্ট ফল এক দেড় মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গাছ থেকে সংগ্রহ করা যায়।

 

অ্যাভোকাডোর ব্যবহারঃ

  • কাঁচা অ্যাভোকাডো ফল মাংসে সবজি হিসাবে ,সালাত ও শরবত হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
  • ফলটিতে চিনির পরিমাণ কম বিধায় ডায়েবেটিস রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন।
  • উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভালো কোলেস্টেরল আছে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
  • এই ফলটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে থাকে। এটি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে।
  • এটি শিশুদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট মানের খাবার যা শিশুদের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে।
  • যকৃতকে সুরক্ষা দেয় এবং জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ওষধীগুন সম্পন্ন হওয়ায় একে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
  • এতে রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে অকালে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।
  • অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • এতে রয়েছে কলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • এ ফলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ আছে যা হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।