টিপাফল বা পায়েলা

টিপাফল বা পায়েলা

দেখতে অনেকটা লাল আঙ্গুরের মতো। তবে এর খোসা আঙ্গুর থেকে মোটা। এক ধরনের টক মিষ্টি ফল পায়েলা। টিপে নরম করে খেতে হয় বলে অনেক অঞ্চলে এটিকে টিপাফলও বলা হয়। এই ফলটির ভেতর যত উপাদান রয়েছে তার মধ্যে ৬০ ভাগই আয়রন।

টিপাফল ছাড়াও পায়েলার অনেক নাম রয়েছে। যেমন- টিপটিপানি, টিপাটিপি, লুকলুকি, পেলাগোটা, প্যালা, ঝিটকি, পলাগোটা, টরফই, পানিয়ালা, পানি আমলা, পাইন্না, পাইন্যাগুলা, বেহুই ইত্যাদি। এই ফলটির গাছ নিচুভূমি এবং পাহাড়ি এলাকার বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের ‘উইলো’ পরিবারভুক্ত।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়াতে ব্যাপকভাবে চাষ হয় পায়েলার। আমাদের দেশে এর তেমনভাবে কোন চাষ হয় না। বনে জঙ্গলে পায়েলার গাছ জন্মে থাকে। এর গাছ কাঁটাযুক্ত। এই গাছে মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে। ফল পাকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে।

আমাদের শরীরের জন্য এই ফলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পায়েলায় রয়েছে শতকরা ৬০ ভাগ আয়রন। সালফার, ফসফেট ছাড়াও ১০ ভাগ রয়েছে ভিটামিন সি। অন্যান্য উপাদানও রয়েছে সমানভাবে।এর মধ্যে ঔষুধি গুনাগুণ ও বিদ্যমান আছে।

টিপাফলের গুণ বা উপকারীতাঃ

* ওষুধি ফল হিসেবে পাইন্ন্যাগুলার বেশ কদর রয়েছে। এ ফল খেলে হজমশক্তি ও লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

* হৃদরোগীদের জন্য এটি উপকারী ভেষজ ঔষধের কাজ করে।

* এই ফলের ভিটামিন সি খাবারের প্রতি রুচি বাড়িয়ে মুখের ক্ষত সারাতে কার্য কর ভূমিকা পালন করে।

* এতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* কারো এসিডিটির সমস্যা থাকলে তা দ্রুত দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

* টিপাফলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়ামে ভরপুর। শরীরে শক্তি যোগাতে টিপাফলের গুরুত্ব অপরিসীম।

* নিয়মিত টিপাফল খেলে শরীরের বিষক্রিয় পদার্থ বের করে দেয়।

* এই গাছের পাতা ও ফল ডায়রিয়া রোগের প্রতিরোধক।

* শুকনো পাতা ব্রংকাইটিস রোগের জন্য বিশেষ উপকারী।

* টিপাফলের শিকড় দাঁতের ব্যাথা নিরাময়ে কাজ করে।