বারমাসি শসা চাষের নতুন সহজ পদ্ধতি

বারমাসি শসা চাষ

শসা

শসা বাংলাদেশের প্রধান ও জনপ্রিয় সবজি সমূহের মধ্যে অন্যতম। শসা প্রধানত সালাত ও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শসার প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য অংশে ৯৬%পানি থাকে। এছাড়াও কালসিয়াম, কাটোরিন সহ অনেক ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ রয়েছে।

বারমাসি শসার জাত

বর্তমানে বাংলাদেশে বেশকিছু জাতের  বারমাসি শসার চাষ হচ্ছে এর মধ্যে বিদেশী জাতের অধিকাংশই হাইব্রিড।যেমন-  গ্রীন কিং, শিলা, আলাভী, বীরশ্রেষ্ঠ, শীতল, হিমেল, গ্রীন ফিল্ড, সানটং-৪, পান্ডা, ভেনাস, মাতসুরি, বাশখালী, মধুমতি, নওগা গ্রীন, লাকি-৭ ইত্যাদি জাত চাষ করা হয়।

মাটি ও জলবায়ু

উর্বর দো-আঁশ মাটি ও অম্লক্ষারত্ব ৫-৫-৬.৮ শসা উৎপাদনের জন্য উপযোগী। ২৫-৩০ সেঃ গড় তাপমাত্রায় শসা সবচেয়ে ভাল জন্মে।

বীজ বপনের সময়

ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শসার বীজ বপন করা ভাল।এছাড়াও বছরের যে কোনো সময় বীজ বপন করা যায় ।

ফসল সংগ্রহ ও ফলনঃ

কাঁচা খাওয়ার জন্য শসা পাকানো হয় না৷ তবে রান্না করে খেতে হলে কিছু পাকিয়ে নেওয়া ভাল৷কাজেই সবুজ থাকতেই শসা তুলে ফেলা হয়৷ জমিতে লক্ষ্য রেখে মাঝে মাঝেই শসা তুলে নেওয়াহয়৷ একবার সংগ্রহ আরম্ভ হলে ৪-৫ দিন অন্তর অন্তর ফল তুলতে হয়৷ শসার ফলন এক শতকে-৪০-৮০কেজি, একর-প্রতি-৪-৮ টন, হেক্টর-প্রতি-১০-২০ টন৷

 

চারা রোপণ

চারার বয়স ১৬-২০ দিন হলে পলিব্যাগ সরিয়ে মাদায় চারা রোপণ করতে হবে। প্রতি ব্যাগে ২টি চারা থাকলে মাঠে লাগানোর ৬-৭ দিন পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল চারাটি তুলে প্রতি মাদায় ১ টি করে চারা রাখতে হবে।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি
সার ব্যবস্থাপনা

সার একশতকে একর-প্রতি হেক্টর-প্রতিঃ

১। গোবর ২০কেজি ২.০ টন ৫টন

২। খৈল ১কেজি ১৩০ গ্রাম ১১৩ কেজি ২৮০ কেজি
৩। টিএসপি ৬০০ গ্রাম ৬০কেজি ১৫০ গ্রাম
৪। এমপি ৪০০ গ্রাম ৪০কেজি ১০০ কেজি
৫। ইউরিয়া ৪০০ গ্রাম ৪০কেজি ১০০ কেজি

 

বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই ও  পোকা এবং তার প্রতিকার

গান্ধীপোকা ও বিটল পোক (এপিল্যাকনা বিটল ও রেড পামকিন বিটল): গান্ধী পোকা ও বিটল পোকা-গাছের পাতা খায় এবং ফুলের রস চুষে খেয়ে গাছ দুর্বল করে দেয়৷ এপিল্যাকনা বিটলের গায়ে কাটা যুক্ত হলদে রং এর গ্রাব খুব দ্রুত গাছের পাতা খায়৷ এই সব পোকা দমনের জন্য সাড়ে১২ লিটার পানিতে চা চামচের দেড় চামচ পরিমাণ ম্যালাথিয়ন ঔষধ মিশিয়ে স্প্রে করলে পোকা-দূর হবে৷ খেয়াল রাখতে হবে যে, ঔষধ ছিটানোর কমপক্ষে ৭ দিন পর্যন্ত ফল বাজারে বিক্রি বা খাওয়া যাবে না৷